রাতে বাড্ডায় কী হয়েছিল, গিয়ে যা দেখা গেল


মঙ্গলবার দুপুর, ১২টা বাজে প্রায়। ঢাকার বাড্ডা ইউলুপ ধরে রামপুরার দিকে কিছুটা এগিয়ে হাতের বাঁয়ে ডিআইটি আবাসিক এলাকা। সড়কের পাশে উল্টে থাকা ট্রাকের কাছ দিয়ে ডিআইটির গলিতে ঢুকতেই শোরগোল কানে এল।


সেখান থেকে কিছুটা দূরে বাড্ডা থানা। গন্তব্য সেটিই। সোমবার সারা রাত বাড্ডায় গোলাগুলি ও হতাহতের যে তথ্য ছড়িয়ে পড়েছিল, সে সম্পর্কে তথ্য নিতেই সেখানে যাওয়া।


থানার আগে মসজিদ, তার সামনে পড়ে আছে পুলিশের একজোড়া বুট আর গ্রিলে লেগে আছে ছোপ ছোপ রক্ত। তাই দেখতে ভিড় করেছেন কয়েকজন।


মঙ্গলবার দুপুর, ১২টা বাজে প্রায়। ঢাকার বাড্ডা ইউলুপ ধরে রামপুরার দিকে কিছুটা এগিয়ে হাতের বাঁয়ে ডিআইটি আবাসিক এলাকা। সড়কের পাশে উল্টে থাকা ট্রাকের কাছ দিয়ে ডিআইটির গলিতে ঢুকতেই শোরগোল কানে এল।


সেখান থেকে কিছুটা দূরে বাড্ডা থানা। গন্তব্য সেটিই। সোমবার সারা রাত বাড্ডায় গোলাগুলি ও হতাহতের যে তথ্য ছড়িয়ে পড়েছিল, সে সম্পর্কে তথ্য নিতেই সেখানে যাওয়া।


থানার আগে মসজিদ, তার সামনে পড়ে আছে পুলিশের একজোড়া বুট আর গ্রিলে লেগে আছে ছোপ ছোপ রক্ত। তাই দেখতে ভিড় করেছেন কয়েকজন।


দেখা গেল, ধোঁয়া উঠা ভবনটির ভেতরে ঢুকে পড়েছে কিছু মানুষ, জিনিসপত্র নিয়ে যাচ্ছে তারা। শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের যন্ত্র (এসি), পানির পাম্প, আসবাবপত্র, স্টেশনারি, পুলিশ সদস্যদের ট্রাঙ্ক, জানালার পর্দা, তোশকসহ যে যা পারছে হাতে, মাথায়, কাঁধে নিয়ে চলে যাচ্ছে।


দেখা গেল, কিছু মানুষ বৈদ্যুতিক তার, বাল্বসহ বৈদ্যুতিক জিনিসপত্র খুলে নিয়ে যাচ্ছে। কয়েকজন ভাঙছে জানালার গ্রিল এবং শেষপর্যন্ত ভেঙেই সেটি রিকশায় তুলে নিয়ে যাচ্ছে।


বাড্ডা থানার সামনে বেশ কিছু সময় দাঁড়িয়ে এই নৈরাজ্য দেখতে দেখতে সেখানে কথা হল কয়েকজনের সঙ্গে। পরিস্থিতিটা বেশ আতঙ্কজনক, কখন কী ঝামেলায় পড়তে হয়, সেই ভয়ে পরিচয় প্রকাশ করতে চাইলেন না কেউ।


তাদের মধ্যে একজন বললেন, সোমবার দুপুরে শেখ হাসিনার পতনের পর থেকেই থানা ঘেরাও করে রাখে স্থানীয় মানুষ। তখন থেকে থেমে থেমে স্থানীয়রা থানার দিকে ইটপাটকেল ছুটতে থাকে।


কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় বাড্ডা এলাকায় পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। আশপাশে বেশ কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। রণক্ষেত্রে পরিণত হয় পুরো এলাকা, যেখানে পুলিশের বিরুদ্ধে ‘অতিরিক্ত’ বলপ্রয়োগ ও ব্যাপক গুলি ছোড়ার অভিযোগ রয়েছে। বাড্ডায় হতাহত হয় অনেক মানুষ।


ওই ব্যক্তি কথায় কথায় বললেন, হয়ত সেই ক্ষোভ থেকেই সোমবার থানা ঘিরে রাখে স্থানীয় মানুষ। তারা রাতে থানা আক্রমণের চেষ্টা করলে ভেতর থেকে পুলিশ সদস্যরা গুলি ও টিয়ারশেল ছোঁড়ে। পাঁচ-ছয় ঘণ্টা চলে সেই সংঘাত।


আরেকজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, স্থানীয়রা থানা ঘিরে ইট-পাটকেল ছুঁড়তেই থাকে। গুলির কারণে কেউ ভেতরে ঢুকতে পারেনি। তবে গুলিতে অনেকে হতাহত হয়েছে, যাদের রিকশায় করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।


তিনি বলেন, রাত ১২টার পর পুলিশ সদস্যদের উদ্ধারে সাঁজোয়াযান নিয়ে আসে সেনাবাহিনীর সদস্যরা। থেমে থেমে রাত ৩টা পর্যন্ত গোলাগুলি হয়। এর শব্দেই বাড্ডা এলাকা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অবশেষে পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে নিয়ে যান সেনারা। তারা চলে গেলেই অরক্ষিত থানায় আগুন দেয় জনতা।