বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যান্য সমন্বয়করা হেফাজতে থাকা পাঁচ সমন্বয়ককে দিয়ে জোর করে বিবৃতি দেওয়ানো হয়েছে বলে দাবী


এর আগে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের হেফাজতে থাকা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পাঁচ সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ, আবু বাকের মজুমদার, সারজিস আলম এবং হাসনাত আব্দুল্লাহ একটি বিবৃতি দেন যেখানে 'সার্বিক স্বার্থে' কর্মসূচী প্রত্যাহার করে নেয়ার কথা বলা হয়।

সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসুদ তার বিবৃতিতে বলেছেন, "ডিবি কার্যালয়ে সমন্বয়কদের জিম্মি করে ব্ল্যাকমেইল করে এই লিখিত বক্তব্য পাঠ করানো হয়েছে।অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বিবৃতি আদায় ছাত্রসমাজ মেনে নিবে না।"

সহ-সমন্বয়ক রিফাত রশিদ বলেছেন, "জিম্মি করে অস্ত্রের মুখে ডিবি অফিসে হাতে স্ক্রিপ্ট ধরিয়ে জোরপূর্বক যে বিবৃতি দেয়া হয়েছে তা এদেশের ছাত্রসমাজ প্রত্যাখ্যান করেছে..।"

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক আব্দুল কাদের তার বিবৃতিতে বলেছেন, "সমন্বয়কদের জিম্মি করে নির্যাতনের মুখে যে স্টেটমেন্ট দেওয়ানো হইছে, সেটা কখনোই জাতির নিকট গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। আটককৃত সমন্বয়করা ভয়ভীতির মুখে গোয়েন্দা সংস্থার লিখে দেওয়া যে বক্তব্য কেবল রিডিং পড়ে গেছে, আমরা সেই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করছি এবং একইসাথে জোরপূর্বক বক্তব্য আদায় করার মতো সরকারের এমন জঘন্য কাজের তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানাচ্ছি।"

কর্মসূচী প্রত্যাহার করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পাঁচ সমন্বয়কের বিবৃতিটি পাঠ করেন আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম। তার পাশে আসিফ মাহমুদ, আবু বাকের মজুমদার, সারজিস আলম এবং হাসনাত আব্দুল্লাহকে বসে থাকতে দেখা যায়।

নাহিদ ইসলাম বলেন, "কোটা সংস্কার আন্দোলন ও তার প্রেক্ষিতে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অনেকে অপ্রত্যাশিতভাবে আহত এবং নিহত হয়েছেন। তাছাড়া, রাষ্ট্রীয় স্থাপনায় অগ্নিসংযোগসহ নানা সহিংস ঘটনা ঘটেছে। আমরা এই সকল অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত বিচারের দাবী জানাই। আমাদের প্রধান দাবী ছিল কোটার যৌক্তিক সংস্কার যা ইতোমধ্যে সরকার পূরণ করেছেন, এখন শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দ্রুত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার জন্য সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানাই। সার্বিক স্বার্থে আমরা এই মুহুর্ত থেকে আমাদের কর্মসূচী প্রত্যাহার করছি।"

রবিবার নাহিদ ইসলামের মা মমতাজ নাহার অভিযোগ করেন, তাঁরা নাহিদের সঙ্গে দেখা করতে চাইলেও তাঁদের গোয়েন্দা বিভাগের কার্যালয়ে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।

গত শুক্রবার বিকেলে ঢাকার গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতাল থেকে চিকিৎসাধীন কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ ও আবু বাকের মজুমদারকে পুলিশ হেফাজতে নেয়। পরে শনিবার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দুইজন সমন্বয়ক সারজিস আলম এবং হাসনাত আব্দুল্লাহকে গোয়েন্দা পুলিশ তাদের হেফাজতে নিয়েছে।

কোটা সংস্কার আন্দোলনের পাঁচ সমন্বয়ককে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে রবিবার (২৮ জুলাই) জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। তিনি বলেন, পুলিশ তাদের ঝুঁকিমুক্ত মনে করলে ছেড়ে দেয়া হবে।

রবিবার (২৮ জুলাই) নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) হারুন-অর-রশীদ বলেন, “সমন্বয়কারীদের নিরাপত্তার কথা ভেবে আমাদের হেফাজতে নিয়েছি। আমরা তাদের পরিবারকে আশ্বস্ত করছি যে চিন্তার কোনো কারণ নেই। আমরা তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছি এবং তাদের পরিবারকেও এ বিষয়ে আশ্বস্ত করতে হবে।”

এর আগে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) হারুন-অর-রশীদ হেফাজতে থাকা পাঁচ সমন্বয়কের সাথে ডিনারের ছবি তার ফেসবুকে শেয়ার করেন।